![]() |
| তাসকিন আহমেদ। |
চলমান বিপিএল আসরে দারুণ পারফরম্যান্সে করছেন তাসকিন আহমেদ। শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করে চলেছেন অভিজ্ঞ এই পেসার। বিপিএল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার এক আসরে ২০ উইকেট স্পর্শ করা পেসারের সামনে এখন রেকর্ডের হাতছানি। চিটাগং কিংসের বিপক্ষে সোমবার (২০ জানুয়ারি) দল বিশাল ব্যবধানে হারলেও যথারীতি কার্যকর বোলিংয়ে দুই উইকেট নেন তাসকিন। চলতি আসরে প্রথম বোলার হিসেবে ২০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এবার তার ধারেকাছে নেই আর কোনো বোলার।
তাসকিনের এবার ২০ উইকেট হয়ে গেছে ৯ ম্যাচে। প্রাথমিক পর্বে আরও তিনটি ম্যাচ বাকি আছে রাজশাহীর। চোটাঘাত ছোবল না দিলে বাকি তিন ম্যাচেও তিনি খেলবেন নিশ্চিতভাবেই। যে ধরনের ফর্মে তিনি আছেন, সাকিবকে টপকে না গেলেই বরং সেটি হবে বিস্ময়কর। তার দলের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা টিকে আছে এখনও। যদি প্লে-অফ খেলতে পারে রাজশাহী, তাসকিনও তাহলে সুযোগ পাবেন রেকর্ড গড়ার কিংবা আরও সমৃদ্ধ করার।
এবার আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে তিন উইকেট নিয়ে তাসকিন শুরু করেন বিপিএল অভিযান। পরের ম্যাচে তিনি তোলপাড় ফেলে দেন ক্রিকেট বিশ্বে। একাগাদা রেকর্ড গড়েন ১৯ রানে ৭ উইকেটের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সে। এরপর সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই তিনি উইকেট পান দুইটি করে। যে দুইটি ম্যাচে উইকেট পাননি, সেই দুই ম্যাচেও তার বোলিং ছিল যথেষ্ট আঁটসাঁট।
রান জোয়ারের এবারের বিপিএলেও তিনি এই ২০ উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি মাত্র ৬.৬০ রান দিয়ে। বেশির ভাগ ওভারই তিনি করেছেন পাওয়ার প্লেতে ও শেষের ওভারগুলোয়। পেসারদের মধ্যে বিপিএলে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ২২টি। তাসকিন নিজেও যেটি করেছিলেন ২০১৯ আসরে। এছাড়াও আরও পাঁচ পেসারের আসলে এই কীর্তি।
২০১৫ আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সে মাত্র ৯ ম্যাচ খেলেই ২২ উইকেট নিয়েছিলেন কেভন কুপার। ক্যারিবিয়ান এই পেসারের বোলিং অ্যাকশন পরে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় অকালে শেষ হয় ক্যারিয়ার। স্বীকৃত ক্রিকেটে শেষ ম্যাচটি খেলেন তিনি ২৯ বছর বয়সেই। এছাড়াও ২০১৯ আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২২ উইকেট শিকার করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, একই আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে সমান উইকেট নেন রুবেল হোসেন ও গত আসরে দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে ২২ উইকেট আদায় করেন শরিফুল ইসলাম।
সতীর্থদের কাছ থেকে আরেকটু সহায়তা পেলে অবশ্য এর মধ্যেই রেকর্ডটি হয়ে যেতে পারত তাসকিনের। জাতীয় দলে তার বোলিংয়ে ক্যাচ পড়ার যে ধারা, তা দেখা গেছে এবার রাজশাহী দলেও। বেশ কটি ক্যাচ পড়েছে তার বোলিংয়ে। সোমবার চিটাগংয়ের বিপক্ষেও তার বোলিংয়ে দুটি ক্যাচ নিতে পারেননি ফিল্ডাররা।
তার পরও রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তাসকিনের ভালোভাবেই আছে। রাজশাহীর বোলিং আক্রমণে কেবল তিনি ছাড়া ধারাল বোলার নেই একজনও। গোটা আসরে ৫ উইকেটের বেশি নেই দলের আর কোনো বোলারের। প্রতিপক্ষ দলগুলি তাই তাকে সাবধানে খেলে অন্যদেরকে আক্রমণ করার পথও বেছে নিয়েছেন। তিনি তবু উইকেট আদায়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন। তাসকিনদের পরের ম্যাচ বৃহস্পতিবার শীর্ষে থাকা রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে।

0 Comments